হটলাইন - মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বই রিভিউ
  • প্রচ্ছদ
  • মুদ্রন
  • কাহিনী
  • দাম
2.3

হটলাইন - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

হটলাইন কোন সায়েন্স ফিকশন বই নয়, নন-ফিকশনও নয়। এটাকে উপন্যাস বলা যায় না। উপন্যাসের বাঁধা ধরা কোন নিয়ম আছে বলে আমার জানা নেই, তবে এই বইকে উপন্যাস বলতে আমি নারাজ। আমি বড়জোর এটাকে একটা বড় গল্প বলব।

বইয়ের প্রচ্ছদে কোথাও বাগাড়ম্বর নেই। সাদাসিধে ছবি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স করা। একটা বিল্ডিং এর উপরে দাঁড়িয়ে এক ব্যাক্তি ফোনে কথা বলছে। অনুপাত অনুযায়ী বিল্ডিং এর থেকে মানুষের সাইজ বড়, তার মাথার উপর পৃথবীর থেকে বড় সাইজের একটা ততোধিক উজ্জ্বল চাঁদ।

নীলের প্রবল প্রাধান্য আছে প্রচ্ছদে, অনেক তাড়াহুড়া করে একটা প্রচ্ছদ করা বই, কম্পোজের বাপ-মা এক করে বিশাল বিশাল ফাঁক রেখে মুদ্রন করা। এই ৭০ পৃষ্ঠার বই বড়জোর ৩০ পাতায় যেত সঠিক ফন্টে আর স্পেস দিয়ে ছাপা হলে।

বইয়ের নামঃ হটলাইন
লেখকঃ মুহম্মদ জাফর ইকবাল
প্রকাশ কালঃ বইমেলা ২০১৯
প্রকাশকঃ রাজিয়া রহমান
প্রকাশনঃ জাগৃতি প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৭১
মূল্যঃ দুইশত টাকা

হটলাইন - মুহম্মদ জাফর ইকবাল

নামী লেখকের বই নিয়ে কথা বলাটাই অনেকটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে যায়। কিন্তু পাঠক হিসেবে আমি আমার মতামত দিতেই পারি।

হটলাইন কোন সায়েন্স ফিকশনের বই নয়। বইয়ের উপরে তা কোথাও লেখাও নেই। কিন্তু এটা যে আসলে কিসের বই তাই বোঝা মুশকিল।

বইয়ের গল্প আগায় আত্মহত্যা প্রবন এক লোকের সুইসাইড হটলাইনে ফোন দেয়া থেকে। সেখানে এক মেয়ে ফোন ধরে নাম রত্না। এই মেয়ে তাকে সুসাইড করার হাত থেকে বাঁচায়। ফোন দেয়া লোকটার নাম জুলহাজ।

জাফর ইকবাল মূলত শিশু কিশোরদের জন্য লিখে থাকেন। কিন্তু এইটা কোন জেনারের বই আর টার্গেট করা হয়েছে কাদেরকে সেটা নিয়ে আমি বিস্তর সংশয়ে আছি। আমি কিশোরদের সুইসাইডের গল্প শোনাতে চাই না। কয়জন কিশোর সুইসাইড করে সেটাও আমার জানা নেই।

একটা লেখক যাই লিখবেন তার সব কিছুই ভালো হবে না এটাই স্বাভাবিক। বইয়ের গল্প, ভাষা, প্রচ্ছদ, মুদ্রন সব কিছুতেই একটা তাড়াহুড়োর ছাপ। মনে হয় বইমেলাতে একটা বই বের করাই লক্ষ্য ছিল। কারন মুহম্মদ জাফর ইকবাল, এই নামটা বিক্রি হয়।

একটা দুর্বল গল্পকে অহেতুক টেনে বড় করে এই “হটলাইন” বইটা করা হয়েছে। বইয়ের দামও অহেতুক বেশি। গল্পের মাঝামাঝি আমার মনে হয়েছে একটু প্রেম প্রেম ভাব চলে এসেছে ঃ)।

হটলাইন - মুহম্মদ জাফর ইকবাল 1
লেখালেখিটা পেশা নয় বরং নেশা হিসেবে নিয়েছি। যা কিছু ভালো লাগে তাই লিখে যাই অনবরত। আমাদের আশে পাশে এত এত রহস্যের জাল ছড়িয়ে আছে, সেসব দেখতে দেখতে এক মানব জীবন কখন কেটে যাবে টেরই পাবো না!

মতামত দিনঃ