আরিফা পারভিন মৌসুমী (যিনি মৌসুমী নামেই সুপরিচিত) বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী এবং মডেল। গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ঢাকাই সিনেমার অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব তাকে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় করে তুলেছে।
১. প্রাথমিক জীবন ও পরিচিতি
মৌসুমী ১৯৭৩ সালের ৩রা নভেম্বর খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত ছিলেন। ১৯৯০ সালে ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো বিউটি কনটেস্ট’-এ বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তিনি মিডিয়া জগতে প্রথম নজর কাড়েন এবং মডেলিং দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
২. চলচ্চিত্রে অভিষেক ও সাফল্য
১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে। এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে ছিলেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। প্রথম ছবিই তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। এরপর তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। সালমান শাহ, ওমর সানী, রিয়াজ, ফেরদৌস, মান্না এবং ইলিয়াস কাঞ্চনের মতো জনপ্রিয় সব নায়কের বিপরীতে তিনি সফলভাবে অভিনয় করেছেন।
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র:
- কেয়ামত থেকে কেয়ামত
- অন্তরে অন্তরে
- দোলা
- খায়রুন সুন্দরী (গ্রামীন পটভূমিতে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়)
- মোল্লা বাড়ির বউ
- মেঘলা আকাশ
- দেবদাস
৩. পুরস্কার ও সম্মাননা
অভিনয় জীবনে তিনি অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে সম্মানজনক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তিনি তিনবার লাভ করেছেন:
- মেঘলা আকাশ (২০০১): শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
- দেবদাস (২০১৩): শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
- তারকাঁটা (২০১৪): শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী
এছাড়াও তিনি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং বাচসাস পুরস্কারসহ আরও অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
৪. পরিচালনা ও অন্যান্য ভূমিকা
শুধুমাত্র অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, মৌসুমী একজন সফল পরিচালকও। ২০০৩ সালে ‘কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তাঁর অভিষেক হয়। এছাড়াও তিনি ‘মেহের নিগার’ ছবিটি পরিচালনা করেছেন। তিনি ইউনিসেফের (UNICEF) শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন।
৫. ব্যক্তিগত জীবন
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী-র সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বাংলাদেশের শোবিজ জগতে একটি আদর্শ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁদের সংসারে ফারদিন এহসান স্বাধীন (পুত্র) এবং ফাইজা (কন্যা) নামে দুই সন্তান রয়েছে।
মৌসুমী বর্তমানে অভিনয়ে কিছুটা অনিয়মিত হলেও, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি সর্বদা একজন আইকনিক অভিনেত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
























