একই মানুষের চেতনাকে সার্জারির মাধ্যমে মাথায় চিপ বসিয়ে দুই ভাগ করে ফেলা হয়। একটা তার ওয়ার্ক লাইফ মেইন্টেইন করে, আরেকটা অফিসের বাইরে। তার মূল চরিত্র মূলত তার ওয়ার্ক লাইফকে নিয়ন্ত্রন করে।
কিন্তু, এই ওয়ার্ক লাইফের সত্ত্বা একসময় ভাবতে শুরু করে সে আসলে বন্দী। কারন অফিসের বাইরে তার যে জীবন সেখানকার কোন স্মৃতি তার নেই। তার প্রতিদিন সকাল আর রাত হয় অফিসের লিফটে। সে শুধু চেনে অফিস সহকর্মীদের আর চারদেয়ালে ঘেরা অফিস রুমগুলোকে। এটাই তার পৃথিবী। আবার মূল চরিত্রের অফিসের কোন স্মৃতি নেই। সে অফিসের লিফটে ওঠা মাত্রই শরীর আর মনের দখল চলে যায় কর্মী সত্ত্বার কাছে।
এটা অনেকটা দিনের বেলা, আমার শরীর ভাড়া দিলাম কোম্পানিকে, রাতের বেলা সেটা ফেরত দেবে। কোনভাবেই এই কাজের সময় আপনার বন্ধু-আত্মীয় কেউ আপনার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে না।
আবার, তার ছুটির সময় কোম্পানি কোনভাবেই আপনাকে বিরক্ত করবে না। একই মানুষের ডুয়েল এই পার্সোনালিটির অদ্ভুত আর অব্যক্ত বেদনা ফুটিয়ে তুলতে পরিচালক আর লেখক যথেষ্ট কারিশমা দেখিয়েছেন।
প্রথমদিকে খুব বেশি নাটকীয়তা না থাকলেও সিরিজের শেষ দুই পর্বে এসে টানটান উত্তেজনা শুরু হয়। অফিসের সত্ত্বা বুঝতে শুরু করে সে আসলে একজন বন্দি। এমনকি নতুন আসা এক সহকর্মী রিজাইন করতে চাইলেও তাকে সেটা করতে দেয়না তার বাইরের সত্ত্বা। নতুন এই রিক্রুট একবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। ডুয়েল পার্সোনালিটির এক অলিখিত যুদ্ধ শুরু হয়। এ যেন, মানুষের নিজের সাথে নিজের যুদ্ধ্ব ঘোষনার সামিল।
ওয়ার্ক-লাইফ মেইন্টেইন করার এই অদ্ভুত এক প্রয়াস থেকে শুরু হয় এই দুই সত্ত্বার টানাপোড়ন। অফিসের সত্ত্বা যখন জানতে চায়, সে আসলে কে, অফিসের বাইরে তার জীবন কি রকম? তখন তারা কোম্পানির নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে গোলমাল পাকাতে শুরু করে। জেলখানার কয়েদিরা মাঝেমধ্যে যেরকম করে বিদ্রোহ করে।
যারা চাকুরীজীবি আছেন, তারা খুব সহজেই মিলিয়ে ফেলতে পারবেন নিজের জীবনের সাথে। Severance শব্দের বাংলা অর্থ বিচ্ছেদ। এই সিরিজ প্রমান করেছে আমাদের চাকুরীগুলো আসলে জীবনের সাথে আমাদের বিচ্ছেদ এবং সিরিজটা আপনাকে মর্মাহত করতে বাধ্য।