• ধর্ম কি এবং কেন?
  • সকল ধর্মে স্বর্গ-নরক, হেল-হেভেন, জান্নাত জাহান্নাম এর কথা কেন বলা হয়েছে? 
  • স্বর্গ-নরক, হেল-হেভেন, জান্নাত-জাহান্নাম এর অস্তিত্ব আদৌ আছে কি?

অনেক গুলো প্রশ্ন, বিষদ আলোচনা করার মত সময়, ধৈর্য্য বা জ্ঞান আমার নেই,তবুও আমার স্বল্প জ্ঞানে যতটুকু সম্ভব আলোচনা করবো, অবশ্যই এই আলোচনা কাউকে জ্ঞান দান করার উদ্দেশ্যে নয় বরং আপনাদের মতামত নিয়ে নিজের জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই আলোচনা। 

প্রথম প্রশ্ন ধর্ম কি?

এক কথায় বলতে গেলে ধর্ম হচ্ছে জীবন ব্যবস্থা। 

সহজ একটি উদাহরণ দেই, আমি যদি ঢাকা থেকে চট্রগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা করি তা হলে আমাকে নিজ গৃহ থেকে বের হতে হবে, পায়ে হেটে নতুবা রিকশা, সিএনজি,লোকাল বাস অথবা অন্য কোনও বাহন মারফত আমাকে দূরপাল্লার বাস ষ্ট্যান্ড, রেল ষ্টেশন অথবা বিমান বন্দর এ পৌঁছাতে হবে।এবং বাহন অনুযায়ী টিকেট সংগ্রহ করতে হবে,তার পর সেই বাহনে করে চট্রগ্রাম পৌছাতে হবে।

এই যে লম্বা একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমাকে চট্রগ্রাম পৌঁছতে হবে এটাকে বলে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

ঠিক তেমনি মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে বলা হয় জীবনব্যবস্থা।

আমার মত স্বল্প জ্ঞানের অধিকারী যারা তারা নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন ধর্ম একটি জীবন ব্যবস্থা। এর মধ্যে দুটি ধারা আছে একটি আস্তিক ধর্ম আর একটি নাস্তিকতার ধর্ম।

মোটকথা ধর্ম ব্যতীত পৃথিবীতে একজন মানুষও নেই। অবাক হওয়ার কিছু নেই, ভাবছেন আস্তিক ধর্মতো বুঝলাম নাস্তিকতার ধর্মটা কি?

আস্তিক ধর্ম হচ্ছে সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী, হোক সেটা এক বা একাধিক, অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাসী, ভাগ্যে বিশ্বাসী, পরকালের বিচার শাস্তি ও পুরস্কারে বিশ্বাসী।

আর নাস্তিকতার ধর্ম হচ্ছে প্রথমতঃ আস্তিক ধর্ম কে অবিশ্বাস করা এবং নিজের সুবিধা অনুযায়ী জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আগেই বলেছি ধর্ম একটি জীবনব্যবস্থা, অবশ্য সব নাস্তিকের জীবনব্যবস্থা এক নয়,তাদের মধ্যে মিল বলতে এতটুকুই যে তারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেনা, যেহেতু তারা সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করেনা সেজন্য তারা ভাগ্যে অবিশ্বাসী এবং একই সঙ্গে পরকাল, বিচার, শাস্তি, পুরস্কার সমস্ত কিছুতেই অবিশ্বাসী।

তারা নিজ নিজ খায়েশ অনুযায়ী চলে তাই তাদের ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা ভিন্ন ভিন্ন, এদের নির্দিষ্ট কোনও ধর্ম নেই তবে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ধর্ম, শুধু এক স্থানেই এদের দৃঢ় মিল সেটা হচ্ছে আস্তিক ধর্মকে অবিশ্বাস করা, এইখান থেকে আমি বুঝলাম একেকটি জীবন ব্যবস্থা একেকটি ধর্ম।

আরও অনেক কিছু লেখা যায় তবুও এই বিষয়ে এইখানে ইতি টানলাম।

দ্বিতীয় প্রশ্ন ধর্ম কেন?

এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার বিষয়, এত আলোচনা করার সময় বা ধৈর্য্য আমার নেই সেই সঙ্গে পাঠকদেরও এত সময় নেই,কারন এখন সবাই এক প্রকার কৃত্রিম ব্যস্ততার মধ্যে সময় কাটায়।

যাক সে আরেক ইতিহাস, সে সব নিয়ে অন্য কোনও লেখায় আলোচনা করা যাবে।মূল কথায় আসি, ধর্ম একটি অদৃশ্য শৃঙ্খল, এই শৃঙ্খল সৃষ্টির সকল কিছুকে পরানো হয়েছে যেমন সূর্য, তার কাজ তাপ এবং আলো প্রদান করা এবং সে পৃথিবী থেকে নির্দিষ্ট একটি দূরত্বে অবস্থান করছে, এই ভাবে তাকে শৃঙ্খল পরানো হয়েছে এইটা তার ধর্ম বা জীবন ব্যবস্থা বলা যায়।

এই ভাবে চন্দ্র, গ্রহ, নক্ষত্র সকল কিছুকে আলাদা আলাদা ভূমিকা দিয়ে শৃঙ্খলিত করা হয়েছে। তবে এদের প্রত্যেকের ভূমিকা কি তা আমরা মানুষরা এখনও জানতে পারিনি। অবশ্য জানার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করিনা,অন্তত আমি ব্যক্তি গত ভাবে জানার ইচ্ছা পোষন করি না।

তবুও একদল লোক জানার জন্য আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে আমি কোনও আপত্তি করছি না। আপত্তিটা অন্য যায়গায়,যাক সেটা এখানে আলোচ্য বিষয় নয়।

ধর্ম নিয়ে সাদাসিধে কথা 1

আলোচ্য বিষয় হচ্ছে ধর্ম কেনো? ধর্ম কেন দেয়া হয়েছে, এই বিষয়টা বোঝার জন্য আমি কোনও ধর্মীয় গ্রন্থের দিকে যাবো না। আমার আশেপাশে ঘটা সস্তা কিছু উদাহরন দিয়ে বুঝার চেষ্টা করি।

আমি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন বা জমা করতে গেলে দেখি সেইখানে আমি একা নই আমার মত আরো অনেক লোক আছে। প্রত্যেকে একই সময় টাকা জমা দেওয়া বা উত্তোলন করা সম্ভব নয় তাই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটি নিয়ম বা ব্যবস্থা করেছে।

সকলকে সারিবদ্ধভাবে দাড় করিয়ে এক জনের পর এক জনকে তাদের কাঙ্খিত সেবা প্রদান করছে। যে আগে এসে সারিবদ্ধ হয়েছে সে আগে সেবা নিয়ে চলে যাচ্ছে। একই ভাবে ডাক্তারের কাছে গেলে সিরিয়াল নিতে হচ্ছে। সেই সিরিয়াল অনুযায়ী ডাক্তার সেবা প্রদান করছেন।

এই ভাবে আমাদের আশেপাশে অনেক উদাহরণ আছে। এখন কথা হচ্ছে নিয়ম কেন করা হয়েছে?

এই সব নিয়মের মধ্য দিয়ে মানুষের সেবা পেতে সুবিধা হয়, কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না আর তাই সৃষ্টিকর্তা মানুষের জন্য ধর্ম দিয়েছেন আর সেই ধর্ম-গুলো তে বিভিন্ন বিধান দিয়েছেন এবং সেই সব বিধানে আবার অনেক ধারা উপধারা দিয়েছেন, অর্থাৎ জীবন ব্যবস্থা দিয়েছেন।

এই জীবন ব্যবস্থায় একজন মানুষ কি ভাবে তার জীবন অতিবাহিত করবে হোক সেটা ব্যক্তি জীবন, পারিবারিক, সামজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক জীবন তার বিধান দিয়েছেন।

এবার আসা যাক তৃতীয় প্রশ্নে আর তা হল প্রত্যেক ধর্মে কেন স্বর্গ-নরক, হেল-হেভেন বা জান্নাত-জাহান্নাম এর কথা বলা হয়েছে?

আমি আমার ছেলে কে বললাম তুমি যদি এবার বার্ষিক পরিক্ষায় ভাল রেজাল্ট করতে পারো তা হলে তোমাকে একটি সাইকেল কিনে দিব, আর যদি তা করতে না পারো তাহলে তোমাকে বাসায় না রেখে হোষ্টেলে পাঠিয়ে দিবো।

এ ক্ষেত্রে তার মধ্যে দুটি জিনিষ কাজ করবে এক পরিবার পরিজন ছেড়ে হোষ্টেলে থাকার ভয়, দ্বিতীয় সাইকেলটি পাওয়ার আশা। অতএব আমার ছেলে মনযোগী হয়ে পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করার চেষ্টায় নিয়োজিত হবে।

ঠিক তেমনি ভাবে ধর্মেও জান্নাত-জাহান্নাম, স্বর্গ-নরক, হেল-হেভেন এর কথা বলে মানুষকে শাস্তি ও পুরস্কার এর কথা বলা হয়েছে, মানুষেরা যাতে খারাপ কর্ম থেকে বিরত থাকে এবং ভাল কাজ করে। এবং মানুষের কৃতকর্ম অনুযায়ী বিচার হবে, সে অনুযায়ী শাস্তি ও পুরস্কার প্রদান করা হবে।

এবার চতুর্থ প্রশ্নে আসি স্বর্গ-নরক, হেল- হেভেন, জান্নাত-জাহান্নাম এর অস্তিত্ব আসলেই কি আছে?

ধর্ম নিয়ে সাদাসিধে কথা 2

ধরুন আমি নৌকা ঘাটে গিয়ে হাজির হলাম নদী পার হব বলে কিন্তু ঘাটে কোনও নৌকা বা অন্য কোনও জলযান নেই, এখন আমি নদী পার হব কি করে? অনেকে হয়তো বলবে সাঁতার দিয়ে, কিন্ত সেটাও আমার পক্ষে সম্ভব নয়,তা হলে কি হবে? 

আমি দেখলাম নদীর ধারে একটি গাছ আছে আমি গাছের সামনে হাজির হলাম এবং গাছকে খুব বিনয়ের সাথে বললাম আমাকে নদীটা পার করে দেওয়ার জন্য। গাছ আমার বিনীত অনুরোধ শুনে থাকতে পারলো না গাছটি সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে শুয়ে পড়লো এবং নিজে নিজে কয়েকটি তক্তায় পরিনিত হলো এবং সেই তক্তা দেখতে দেখতে নৌকায় রুপ নিলো। আমিও খুশি মনে চড়ে বসলাম সেই নৌকায় এবং নদী পার হয়ে গেলাম।

আহা কি আনন্দ! ভাবছেন গন্জিকা সেবন করেছি? ভাবারই কথা কারন কথাটাইতো বলেছি এমন!

তার মানে একটা গাছ আপনা আপনি যেমন নৌকা হতে পারে না তেমনি ভাবে এই বিশ্ব বা মহা বিশ্বের সমস্ত কিছু এমনি এমনি সৃষ্টি হয়নি,কেউ না কেউ সৃষ্টি করেছেন। তার মানে কেউ একজন সমস্ত কিছুর স্রষ্টা।

কেউ একজন বললাম এই কারনে বর্তমানে প্রচলিত যে সকল প্রসিদ্ধ ধর্ম রয়েছে তার মধ্যে সবাই এক সৃষ্টি কর্তার কথাই বলে যদিও এদের মধ্যে অনেকে ঈশ্বরের পুত্র স্ত্রী এবং অনেক দেব দেবতা বানিয়েছে, কিন্তু সৃষ্টি কর্তা একজন এটা সবাই স্বীকার করে। 

এই আলোচনা দ্বারা বুঝলাম সৃষ্টির কোনও কিছুই এমনি এমনি হয়নি,সব কিছুর একজন সৃষ্টি কর্তা আছেন,আর সকল ধর্মে সৃষ্টিকর্তার উধ্বৃতি দিয়েই স্বর্গ-নরক, হেল-হেভেন, জান্নাত-জাহান্নাম এর কথা বলা হয়েছে সুতরাং স্বর্গ নরক হেল হেভেন জান্নাত জাহান্নামের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে। 

যাহোক এতক্ষন যাই বললাম সবই আমার নিজেকে নিজে বুঝানোর প্রয়াস মাত্র। আপনাদের সুচিন্তিত মতামত আশা করছি,ভূলত্রুটি হতেই পারে,নিজ গুনে ক্ষমা করবেন। ইনশাল্লাহ আগামীতে কোনও এক সময় সকল ধর্মের মধ্যে ইসলাম কেন শ্রেষ্ঠ ধর্ম ও সত্য ধর্ম তা নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো,ধন্যবাদ সকলকে, সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন,এই অধমের জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ়্ যেন আমাকে পরিপূর্ণ হেদায়েত দান করেন।


লেখালেখিতে তেমন পটু নন। তারপরেও নিজ ব্যাব্সা সামলানোর মাঝে আগাছার জন্য তার মনের কথাগুলো সাজিয়ে দিয়েছেন – মাসুদুর রহমান

2 COMMENTS

  1. “আর নাস্তিকতার ধর্ম হচ্ছে প্রথমতঃ আস্তিক ধর্ম কে অবিশ্বাস করা এবং নিজের সুবিধা অনুযায়ী জীবন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।”

    এই লাইনটা নিয়ে আমার কিঞ্চিৎ আপত্তি আছে। নাস্তিক মানেই ধর্ম বিদ্বেষী এই ধারনাটা ভুল। বেশিরভাগ ধর্ম বিদ্বেষী লোকজনই একটা বিশেষ কোন ধর্মের বিরোধিতা করে। আর একারনেই সবাই নাস্তিকতার দোষ দিয়ে থাকে।

    মূলত নাস্তিকতা হল, জীবন যাপনের সমীকরন থেকে ঈশ্বরের অংশ সরিয়ে ফেলা। আর আপনার লেখা থেকে এটা কি ধরে নেব যে, ধর্মের মূল কাজ হল লোভ দেখানো আর ভয় দেখানো। মানে পুরষ্কার বা তিরষ্কার?

  2. যারা ধর্ম পালন করে তারা চায় সবাই যেনও ধর্ম টা মেনে চলে,তার একটা যৌক্তিক কারনও আছে,ধরুন আপনি রাস্তায় মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন আপনার পাশা পাশি আমিও চালাচ্ছি, আপনি সকল নিয়ম কানুন মেনে খুব সাবধানতার সহিত চালাচ্ছেন আর আমি নিয়মের তোয়াক্কা না করে যেনতেনও ভাবে চালাচ্ছি, আমার এই বেপরোয়া চালানোর কারনে যে দূর্ঘটনা ঘটবে তাতে কিন্তু আপনিও আঘাত পেতে পারেন, তাই নাস্তিক বলেন আর ধর্ম বিদ্বেষী বলেন দুটোই বিপদ জনক,কারন দুজনের কেউই নিময় মানচ্ছে না। তাই তাদের কেই দোষারপ করা হয় আর ধর্ম বিদ্বেষীদের প্রথম লক্ষনই হলো নাস্তিকতা তার পর তারা ধর্ম বিদ্বেষী হয়।
    আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে ধর্মের কাজ শুধু পুরস্কার বা তিরস্কার করা হবে কেনও? আপনার ছোট বয়স থেকে বর্তমান বয়স পর্যন্ত আসার মাঝে আপনার পিতা মাতার ভূমিকাটা লক্ষ করেছেন কি? সেখানে কত আদর ছিলো,শাষন ছিলো,পুরস্কার তিরস্কার,উপহার, বাঁধা নিষেধ ছিলো, আপনি এই সব কে কি ভাবে দেখছেন? ধর্ম তো আমাদের সৃষ্টি কর্তা আমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন, এই খানেও আদর শাষন পুরস্কার তিরস্কার উপহার বাঁধা নিষেধ সবই আছে, এটাকেও সেই ভাবে দেখেন।
    যাই হোক আমি ব্যক্তি গত ভাবে আপনাকে চিনি আপনি সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাসী মানুষ, কিন্তু প্রশ্নের ধরনে অনেকে ভূল বুঝতে পারে। ধন্যবাদ আপনাকে।

মতামত দিনঃ