আমি পাঁড় সাইফাই ভক্ত। যদিও এই টিভি সিরিজ আমি সাইফাই সিরিজ হিসেবে দেখা শুরু করিনি। শুরু করেছিলাম রাঘাব জোয়েল এর অভিনয় দেখার জন্য। তার কমেডি করার স্টাইল আমার বেশ পছন্দের। এরকম একটা সিরিয়াস টিভি সিরিজে সে অভিনয় করেছে এটা দেখেই আমি সিরিজ দেখা শুরু করেছিলাম। প্রথমদিকে থ্রিলার থ্রিলার একটা ভাব নিয়ে শুরু হয়। সে নতুন পুলিশ অফিসার হিসেবে থানায় জয়েন করেছে। তার ক্রিমিনাল প্রোফাইলিং অন্যদের থেকে ভালো, কিছুটা রগচটা আর ত্যাড়া প্রকৃতির। নারসিসিস্টিক হতে হতে গিয়েও হয়নি এরকম একটা চরিত্র।
প্রথম পর্ব শেষ হবার পর আমি নিশ্চিত এটা থ্রিলারের পরিবর্তে হরর এ রুপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু আরেকটু পরে গিয়ে অতীতের সাথে ওয়্যারলেস সেটে তার যোগাযোগ দেখে মনে হচ্ছিল এবার সাইফাই হয়ে যাচ্ছে জিনিসটা এবং তারপরে গিয়ে মোটামুটি থ্রিলারে আর ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনে রুপ নিয়েছে। সাধারন থেকে প্রতি পর্বে অসাধারণ হয়ে উঠেছে প্রতি পর্বের শেষে।
গল্পটা অনেকটা এরকম – নতুন আইনে পনের বছরের পুরনো সব আনসলভড কেইস চিরদিনের জন্য ক্লোজ করে দেয়া যাবে। বাধ সাধে এক মা। তার মেয়ের নিখোঁজ এবং হত্যার বিচার তিনি পাননি। আমাদের সদ্য নিয়োগ পাওয়া ইন্সপেক্টর আরিয়া এটা মেনে নেয় না। সে লেগে পড়ে পুরনো ফাইল ঘাঁটাঘাঁটিতে। এভিডেন্স রুমের এক পুরনো ওয়্যারলেস সেটে রাত ঠিক ১১টা বেজে ১১ মিনিটে তার যোগাযোগ হয় এক অদ্ভুত কন্ঠস্বরের সাথে। প্রথমে অবিশ্বাস করলেও সেই কন্ঠস্বরের কথা অনুযায়ী এক পুরনো টেক্সটাইল মিলে গিয়ে এই খুনের জট খোলে কিংবা আর জট পাকিয়ে যায়। তবে নানা কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত খুনিকে আটকাতে সক্ষম হয় আমাদের ইন্সপেক্টর।
কোরিয়ান টিভি সিরিজ সিগনাল যারা দেখেছেন তারা চটজলদি এই ১১.১১ এর এডাপটেশন টের পেয়ে যাবেন। তবে ভারতীয় দর্শকদের কথা মাথায় রেখে এখানে রোমান্স আছে, ঘটনার ব্যাপ্তি আর আবেগ আছে যেটা নতুন মশলা যোগ করেছে টিভি সিরিজটিতে।
যারা টাইম ট্রাভেল আর বিজ্ঞানের সাদামাটা থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের জন্য এই সিরিজ বেশ ভালো একটা খাবার। যদিও অতীতের সাথে যোগাযোগের সময় যে আবহের সৃষ্টি হয় সেটা আমার কাছে খুব খেলো মনে হয়েছে। তবে ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে এটা ভারতীয় দর্শকদের জন্য উন্নতমানের একটা টিভি সিরিজ। আমি হতাশ নই, সময় ভাল কেটেছে।