বাংলাদেশে আগামীকাল নির্বাচন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন বলতে যা বোঝায় এটা আসলে ঠিক তা নয়। সত্যি বলতে গেলে এটা অনেকটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলা চলে। বিগত সময়কালে দীর্ঘ সতের বছর ধরে অনেকেই নির্বাচনে ভোট দিতে যাননি। আমি নিজেও যেতে পারিনি। আগেই ফলাফল ঠিক করে রাখায় এবং বড় বড় দলগুলো নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায়, সেই নির্বাচনগুলোর আসলে কোন মানে ছিলনা। তবুও আমি এবং ডামি নির্বাচন করে গেছে আওয়ামীলীগ। এবার ২০২৬ এর নির্বাচনে নির্বাহী আদেশে আওয়ামীলীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছে, রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। দলের নেতারা দেশ ত্যাগ করেছেন। কাজেই এই নির্বাচনও আওয়ামীলীগ আমলের মত সব দলমতের অংশগ্রহনে হচ্ছে না।
সময় বদলেছে আর বদলেছে বলির পাঁঠা। আমরা আসলে এমন একটা নির্বাচন চাইছিলাম যেখানে সব দল অংশগ্রহণ করতে পারবে আর যদি ১২ কোটি ভোটার থাকে তবে অন্তত যেন ১০ কোটি ভোটার ভোট দিতে যায়। আফসোসের বিষয় এবারও সেটা হবে না। আরেকটা জিনিস হবে না, সেটা হচ্ছে শুধু মাত্র বাংলাদেশীদের নিজেদের চেষ্টায় একটা সরকার গঠন করা। আমাদের সব রাজনৈতিক দলই সর্বদা তাঁকিয়ে থাকে তৃতীয় কোন শক্তির দেশে। আমেরিকা, রাশিয়া, চীন,ভারত, সৌদির অর্থায়ন, ইউরোপের বানিজ্য ইত্যাদি নানা বিষয় ছোট ছোট জায়গায় প্রভাব খাটায় আমাদের নির্বাচনে।
২০২৬ এর নির্বাচনও এক অর্থে আমি-ডামি নির্বাচন। জামায়াত এবং বিএনপি মোটাদাগে একই বৃন্তের দুটি ফুল। এরা কিছুদুন আগেও একই জোটে ছিল। এখন যেহেতু মাঠে আওয়ামীলীগ নাই, তাই জোট না করে আলাদা আলাদা ভোট করছে। তাতে সরকার আর বিরোধী দল তারাই দখল করবে। একই কাজ আওয়ামীলীগ আর জাতীয় পার্টি মিলে করেছিল। তবে বদলালো কি?
হ্যাঁ / না ভোটের আরেকটা মূলা দাঁড় করিয়ে দেয়া হয়েছে এইবার। যদিও সংবিধান পরিবর্তনের অধিকার শুধুমাত্র নির্বাচিত সংসদের থাকে, তবুও কি ভেবে এই অনির্বাচিত সরকার এই অদ্ভুত সংস্কারের প্রস্তাব করেছে, জানি না। এটা কি মেটিকুলাস ডিজাইনের একটা অংশ? আবার এই কাজকে বৈধতা দেয়ার জন্য আবার জনগণকে হ্যাঁ ভোটের জন্য সরকারিভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, তবে না ভোট রাখারই কি দরকার ছিল? অথবা ভোট করারই দরকার কি ছিল?
আমি নিশ্চিত এই ৮৪ টা পয়েন্টের অনেকগুলোই লোকজন ঠিকমত বুঝতে পারেনি। যদি নাই বোঝে বা একটাও পয়েন্টে আমার দ্বিমত থাকে তবে আমি হ্যাঁ -ভোট দেব কেন?
একদল ছেলেমেয়ে নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে যা খুশি করে বেড়াল গত দেড় বছর। এদের জন্য ভবিষ্যতে ‘ইন্ডিমিনিটি’ দেয়াটাই কি এই হ্যাঁ ভোটের উদ্দেশ্য? এরা যা করেছে ভবিষ্যতে এদের সাথেও একইরকম মব করা হবে না, তার গ্যারান্টি কি কেউ দিতে পারে?
তবুও নির্বাচন হচ্ছে? হওয়াটা দরকার। গণতন্ত্র একটা প্রক্রিয়া, ভোটের মাধ্যমে সেটা শুরু হোক। এই সরকার পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারবে সেটারও খুব একটা সম্ভাবনা দেখছি না। দেশ আবার অস্থিতিশীল হয়ে যাবে। আবারও বিপদে পড়বে বাংলাদেশ। দরকার ছিল সব দলের সবার অংশগ্রহণে একটা নির্বাচন। আমাদের খুব দূর্ভাগ্য আমরা সেটা পাইনি। কোন ভবিষ্যতে পাবো সেটাও জানি না।
এদেশের লোকজন ভোটে এতটাই দূর্নীতি করে যে, বিকাশ, নগদ সহ মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ করে দিতে হয়। টাকার লেনদেন কমানোর জন্য এর থেকে উর্বর আইডিয়া আমাদের নীতি নির্ধারকদের মাথায় আসেনি।
আমাদের বুদ্ধি এবং চিন্তার উন্মেষ ঘটেনি। আমরা দূর্নীতি আর মিথ্যা বলাও বন্ধ করে দেইনি। এই বিশাল সংখ্যক অনৈতিক লোকেরা মিলে একটা নির্বাচন করতে যাচ্ছে। আপনি কি আশা করেন এদের কাছ থেকে? যারা সাধারন জ্ঞানে জানে না, রাস্তায় হাতের ময়লা যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না, তাদের হাতে দেশের প্রধান নির্বাচনের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে।
সবাই এখন বাংলাদেশের পতাকা মাথায় বেঁধে রাস্তায় নামে, কিন্তু বাংলাদেশকে বুকে ধারন করে কয়জন?
