থ্রিলার লেখক হিসেবে বাংলাদেশে সবচেয়ে কে জনপ্রিয়? এই পরিসংখ্যান টানতে গেলে হয়ত নাজিম উদ্দিন এর নাম চলে আসবে। তার বইয়ের সংখ্যা বেশি। কিন্তু সেগুলো আমাকে থ্রিলিং এক্সপেরিয়েন্স যাকে বলে সেটা দিতে পারেনি। আমার বেড়ে ওঠা যে থ্রিলার পড়ে সেটা “মাসুদ রানা” – এখনকার মাসুদ রানা বই পড়ে আগের মত অনুভুতি হয় না, সেটা আমার বয়সের দোষ। কাজী আনোয়ার হোসেনের জাদুর ছাপ পাই না।
বাদল সৈয়দ এর লেখার হাত অসাধারন, তার তথ্য উপস্থাপনাও বেশ সাবলীল। লেখকের লেখার সাথে আমার পরিচয় তার “ছায়া সন্ধান” বইটি পড়ে। তার থ্রিলার এর একরকম ভক্ত হয়ে গেছিলাম সেই বই পড়ে। “বুড়ো নদীটির পায়ের কাছে” বইটিও আমাকে হতাশ করেনি।
বইয়ের ভূমিকায় তিনি মাসুদ রানাকে উৎসর্গ করে লিখেছিলেন, “আমাদের বয়স বাড়ে, মাসুদ রানার বাড়ে না।” – কথাটা ভীষণ রকম মনে গেঁথে গেছে। মাসুদ রানা আমাদের কল্পনার নায়ক হয়ে বেঁচে থাকবে আরও শতবর্ষ।
বুড়ো নদীটির পায়ের কাছে – একটা থ্রিলার বই, এবং অনেকদিন পরে এরকম একটা উপন্যাস পড়ে আমি মাসুদ রানার মত অনুভুতি পেলাম। পেশাগত দায়িত্ব না থাকলে হয়ত এই লেখক আমাদের আরো অনেক থ্রিলার লেখা উপহার দিতে পারতেন।
সারসংক্ষেপঃ বাংলাদেশী এক তরুণ কম্পিউটার বিজ্ঞানী অসাধরন এক আবিষ্কার করে ফেলল। সে বুয়েটে থাকাকালীন এমন একটা সফটওয়্যার বানাতে সক্ষম হয়েছে যা চিন্তাকে ভাষায় রুপান্তর করতে পারবে। নিঃসন্দেহে এটা পৃথিবীর অনেক মানুষের জীবন বদলে দিতে পারবে। তার এই কাজের স্বত্ব কিনতে উঠে পড়ে লেগেছে আমেরিকান এক কোম্পানি। আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী চাইছেন যেকোনভাবেই হোক সেটা নিজেদের আয়ত্ত্বে নিতে। শুরু হয়ে গেল ইদুর-বেড়াল খেলা। শেষ পর্যন্ত কে জিতে গেল আর কে হেরে গেল? কি হল সেই তরুণের? আর মাফিয়া যদি জড়িয়ে যায় এই ব্যবসায়ীক দ্বন্দে তবে ঘটনা কতদূর গিয়ে গড়াবে?
লেখক: বাদল সৈয়দ
প্রকাশক : বাতিঘর
প্রকাশকাল: ডিসেম্বর ১, ২০২২
