ছায়া সন্ধান - বাদল সৈয়দ এর থ্রিলার উপন্যাস রিভিউ
  • প্রচ্ছদ
  • গল্প
  • মূল্য
3.8

ছায়া সন্ধান - মনে দাগ কাটার মত থ্রিলার

মাসুদ রানা ভক্ত কে কে আছেন আমার লেখা পড়েন? একটা হলেও মাসুদ রানা সিরিজের বই পড়েছেন এমন কেউ হয়ে থাকলেও এই বইটা পড়ার পর চটজলদি আপনার কোমলে কঠোরে মেশানো সেই বাঙালী স্পাইয়ের কথা মনে পড়বে।

যদিও ছায়া-সন্ধান বইয়ের পটভুমি একটু ভিন্ন, তবে প্রথম থেকেই আমি মাসুদ রানার স্বাদ পাচ্ছিলাম। ঘটনার বর্ননা, রহস্যময়তা এবং পৃথিবীজুড়ে তার নেটওয়ার্ক সব কিছুতেই একটা প্রচ্ছন ভাব আছে। না… আমি কোনভাবেই বলছিনা মাসুদ রানার মত করে লেখক লিখেছেন।

বরঞ্চ একই রকম স্মৃতি রোমন্থনের আনন্দ পেয়েছে আমি বাদল সৈয়দেরছায়া সন্ধান” বইটা পড়ে। মৌলিক থ্রিলার নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর কল্পনায় লিখেছেন লেখক। সেই সাথে সুতো টেনে জুড়ে দিয়েছেন বাস্তবের কিছু ঘটনাবলীকে।

এক বসায় শেষ করে ফেলতে পারবেন বইটা। সুন্দর প্রচ্ছদ, গতিশীল প্রাঞ্জল লেখা।

প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
ভাষাঃ বাংলা
ধরনঃ থ্রিলার
প্রকাশকঃ বাতিঘর

ছায়া সন্ধান

আমি বাদল সৈয়দের কোন লেখা আগে পড়িনি। এই বইটাও কিনেছিলাম বইয়ের প্রচ্ছদ আর ফ্ল্যাপের ভেতরের লেখাটুকু পড়ে। আমার আশা ছিল না থ্রিলার হিসেবে এতটা ভালো হবে এত ছোট বই।

গল্পের বইয়ের আকৃতি আর মূদ্রনই বলে দেয় বইয়ের পৃষ্ঠা সংখা বেশি হলেও মূল গল্প আসলে বেশি বড় নয় । ভালো হয়েছে, বইটি হাতে ধরতে বেশ সুবিধা হয়েছে। শুধু দাম নিয়ে আমার একটু আপত্তি আছে।

গল্প বলার ধরনে প্রথম দশ বারো পৃষ্ঠা গেলেই আপনি কাহিনীতে বুঁদ হয়ে যাবেন। জড়তা নেই, বানান ভুল চোখে পড়ে না, ঘটনার একটা পরিক্রমা আছে। পাঠকের কৌতুহলী মন জানতে চায় এরপর সব সুতো কখন কিভাবে কোথায় গিয়ে মিলবে! থ্রিলারে যে টান-টান উত্তেজনা থাকে এখানে সেটা না পেলেও গল্প বলিয়ে হিসেবে বাদল সৈয়দ বেশ পোক্ত। তার ছায়া সন্ধান বইয়ের ভাষার সাবলীলতাই আমাকে বাধ্য করেছে এক বসায় বইটা পড়ে শেষ করতে।

আরো বিস্তৃত ভাবে তিনি থ্রিলারটা সাজাতে পারতেন কিন্তু লেখক তা করেননি। ছোট গল্পের আমেজে তিনি গল্প বলে গেছেন। একটা মজা অবশ্য পেয়েছি এই বই পড়ে, অনেকদিন পর মনে হয়েছে মাসুদ রানা সিরিজের কোন বই পড়ছি। কোনভাবেই মাসুদ রানার নকল বলা যাবে না, তবে একই রকম স্বাদের।

বড় উপন্যসের মত চরিত্র গড়ে ওঠারও সময় পায়নি গল্পে। চরিত্র বর্ননার থেকে লেখকের মূল লক্ষ্য ছিল গল্পের যবনিকায় পৌছানো। আর এই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটা অদ্ভুত ছায়া-ছায়া ভাবে তিনি পাঠককে আচ্ছন্ন করে রেখেছেন।

শেষের একটু আগে যদিও ঘটনার পরিনতি কি হতে পারে তা সহজেই আন্দাজ করে ফেলা গেছে, তাও আমি বলব এই বইয়ে লেখকের থ্রিলার রচনার মুন্সিয়ানার পরিচয় তিনি দিয়েছেন।

আমি খুব অবাক হয়েছি বাদল সৈয়দ এর এরকম মৌলিক উপন্যাস এর কোন রিভিউ অনলাইনে কোথাও দেখতে পাইনি বলে। অগোচরে ফুটে থাকা পদ্মফুলের মত। যারা থ্রিলার ভালোবাসেন তারা অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

গল্প শুরু হয় একটা গ্রাম্য পরিবেশের বর্ননা দিয়ে। রনজু গ্রামে আসছে, তার বাবা তাকে আনতে স্টেশনে যাবেন। সেখান থেকে একটানে পাঠক চলে যাবেন জেনারেল জামশেদের রহস্যময় আলাপে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সাংকেতিক কথাবার্তায়। এরপর আন্দাজ করা যায় একটা বড়সড় কোন অপারেশনের প্রস্তুতি চলছে। চলে আসে রাজনীতি আর রনজুর আমেরিকা যাবার গল্পে। সেখান থেকে মোড় নেয় এসপিওনাজ আর চোরাকারবারিতে। সাথে যোগ হয় ইসরায়েল-ইরান সম্পর্ক। আসলে কি হতে চলেছে শেষ পর্যন্ত?

আমার মনে হয় অনেকেই বাদল সৈয়দের নাম আমার মত প্রথম শুনছেন, তাদের সুবিধার জন্য একটু লেখক পরিচিতি জুড়ে দিলাম ধার করে।

লেখক পরিচিতিঃ


জন্ম ১৯৬৮ চট্রগ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম বাদল সৈয়দের। চাকরিজীবী বাবার ঘরে রেডিও বা টেলিভিশন ছিল না। ছিল শত শত বই। অফিস শেষে ঘরে ফিরে বাবা বইয়ে মগ্ন হয়ে যেতেন। গার্হস্থ্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে মায়ের হাতে শোভা পেত নীহাররঞ্জন গুপ্ত বা ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের বই। বাবা–মায়ের সূত্রে বাদল পাঠাভ্যাস তো পেয়েছেনই, তাতে বাড়তি যোগ হয়েছে লেখালেখি। বাদল শুধু বই পড়েন না, নিজে বই লেখেনও। কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবে একটা পরিচিতিও গড়ে উঠেছে তাঁর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়াশোনা করার সময় থেকেই লেখালেখির শুরু। কবিতা দিয়ে শুরু করলেও তাঁর প্রথম বই গদ্যের। তাঁর জন্মজয়জলের উৎস নামের দুটি গ্রন্থ পাঠক সমাদৃত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে অলৌকিক আঙুল, সাধুসংঘ ও মাটির পিঞ্জিরার মাঝে।

পেশাগত জীবনে সরকারি কর্মকর্তা। ১৯৯৪ সালে সিভিল সার্ভিসে (কর ক্যাডার) যোগ দিয়ে এখন কর কমিশনার পদে কর্মরত বাদল সৈয়দ। ২০১৩ সাল থেকে জাতিসংঘের ট্যাক্স নিয়ে গঠিত প্যানেলে খণ্ডকালীন কাজ করছেন।

লেখালেখিটা পেশা নয় বরং নেশা হিসেবে নিয়েছি। যা কিছু ভালো লাগে তাই লিখে যাই অনবরত। আমাদের আশে পাশে এত এত রহস্যের জাল ছড়িয়ে আছে, সেসব দেখতে দেখতে এক মানব জীবন কখন কেটে যাবে টেরই পাবো না!

মতামত দিনঃ