Female – বাংলা নাটক রিভিউ

0
158
Female - বাংলা কমেডি নাটক রিভিউ
  • গল্প
  • অভিনয়
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফী
4

গলি কেন্দ্রিক রসিকতা নাকি ৯০ দশকের বারান্দা প্রেম, কি বলা যায় একে?

এলাকার এক গলির একটা বাড়িতে এক সুন্দরী এয়ার হোস্টেস ভাড়ায় আসে। তার একটু সুনজরে পড়ার জন্য দুই উঠতি যুবকের আনাগোনা বাড়ে সেই গলিতে। একজন ব্যায়ামবীর আরেকজন ড্যান্স মাস্টার। এই নিয়ে দু’জনের মাঝে ঝগড়া লাগে।

এই ঝগড়া শেষ পর্যন্ত এলাকার বড় ভাই থেকে শুরু করে নেতা পর্যন্ত যায় এবং সর্বশেষে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে হাজত বাস সবার।

শেষ পর্যন্ত সেই মেয়ের সাথে কারোরই প্রেম হয়না। মেয়ে বাসা ছেড়ে অন্য পাড়ায় চলে যায়। মাঝখান থেকে সবার ঝগড়াঝাটি শেষে আবার মিলে যাওয়া এবং নিজেদের ভূল বুঝতে পারা।

মোশন রক এন্টারটেইনমেন্ট থেকে কাজল আরেফিন অমির করা ভালোবাসা দিবসের এই নাটকটি ব্যপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।

 

নাটকের নাম ফিমেল… যদিও ফিমেলের প্রচুর ঘাটতি আছে নাটকে। প্রেম কেন্দ্রিক ঝামেলা নিয়ে নাটক নির্মিত হলেও এখানে প্রচুর বিনোদন রয়েছে। ফিমেলের আনাগোনা খুবই কম, কেন্দ্রীয় কোন চরিত্রেই তাদের গ্লামার দেখা যায়নি। বরং ফিমেল কেন্দ্রিক প্রেম, ভালোবাসা, ফ্যান্টাসি আর এলাকার হুজুগে পোলাপানের কার্যকলাপই প্রধান।

বিশাল কাব্যিক বর্ননা দিতে যাবো না। কারন প্যানপ্যানে ভালোবাসা দিবসের নাটকের থেকে এই নাটক আমার কাছে যথেষ্ট পরিনত আর হাস্যরসাত্মক মনে হয়েছে।

আশি বা নব্বই দশকের আমরা যারা এলাকা ভিত্তিক বড় ভাই আর ছোট ভাইয়ের রাজনীতি দেখে এসেছি, তারা অনেকটা স্মৃতিকাতর হয়ে যাবেন এই নাটক দেখার পরে। কোন বারান্দায় সুন্দর মেয়ে দেখলেই তার নিচে ঘুরঘুর করার সেই দিনগুলি এখন আর দেখা যায় না। এ যেন অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মতো।

কাজল আরেফিন অমি আসলেই একটা জিনিয়াস, আমার মন থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই অনেকদিন পরে এরকম নির্মল একটা আনন্দের নাটক উপহার দেবার জন্য।

সবকটা চ্যানেল ঘুরেও যখন ভালোবাসা দিবসে ভালো কোন নাটক পেলাম না তখন এই নাটকে এতগুলো তারকা দেখে অবাকই হতে হয়েছে। তাহসানের সেই প্যানপ্যানানি শুদ্ধ ভাষার ডায়লগবাজি নাই, নাই কোন রেষ্টুরেন্ট বা পার্কের দৃশ্যায়ন, যা আছে তা হল নিখাদ পুরান ঢাকা স্টাইলে বিনোদন।

ডায়লগের দিক থেকে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় মেলে নাটকে। মার্জুকের অভিনয় আমার ততটা ভালো না লাগলেও চাষির সাথে তার ঝামেলা বেশ পরিনত অভিনয়। একটা ডায়লগ আমার বেশ মনে ধরেছে, “জামাটা খুইলা দেখ…যেখানে যেখানে দাগ পাবি…ঐখানে আকবরের নাম লেখা আছে।

ব্যাচেলর পয়েন্টের সব তারকাই এই নাটকে উপস্থিত। পলাশ তার স্বভাব-সুলভ ভাবেই সপ্রতিভ ছিলো পুরো নাটকে। মিশু তার যথাযথ অভিনয়ের চেষ্টা করে গেছে।

একবাটি মুড়ি আর চানাচুর মাখা নিয়ে বসে পড়ুন নাটক দেখতে। কথা দিচ্ছি সময়টা মন্দ যাবে না।

মতামত দিনঃ