Space Sweepers - সাইফাই একশন মুভি
  • গল্প
  • অভিনয়
  • মিউজিক
  • সিনেমেটোগ্রাফী
  • গ্রাফিক্স
4.2

Space Sweepers - সাইফাই একশন মুভি

সাল ২০৯২, স্পেইস জাঙ্কে ভরা মৃতপ্রায় পৃথিবীর চারপাশ। এই আবর্জনা সংগ্রহ করে বিক্রি করাটাও একটা পেশা। এরকমই একটা আবর্জনা সংগ্রহ করার শিপ “The Victory”।  তিনজন মানুষ আর একটা বাতিল আর্মি রোবট মিলে এই স্পেস জাঙ্ক সংগ্রহ করার কাজ করে দ্যা ভিক্টরি।

এরকমই একদিন আবর্জনা সংগ্রহ করার সময় হঠাত করে তারা মানুষের মত দেখতে বাচ্চা একটা হিউমনয়েড রোবট খুঁজে পায়। পরে জানতে পারে এই রোবট বাচ্চা (ডরোথি) আসলে একটা বিধ্বংসী বোমা। UTS কর্পোরেশন যাকে ব্যবহার করতে চায় পৃথিবীতে একটা দূর্ঘটনা ঘটানোর জন্য।

ঋণের বোঝায় ডুবে থাকা ভিক্টরির ক্রুরা জড়িয়ে পড়ে এক অসম চুক্তিতে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ UTS এর মত বিশাল কর্পোরেশন, যাদের মূল লক্ষ্য বানিজ্যের জন্য পৃথিবীর বদলে মঙ্গল গ্রহকে বাসযোগ্য করে তোলা।

ডিরেক্টর: Sung-hee Jo
অভিনয়ে: Song Joong-Ki, Kim Tae-ri, Seon-kyu Jin
মুক্তিকালঃ ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২১
ভাষাঃ কোরিয়ান, ইংরেজী

 

পৃথিবী আর বাসযোগ্য নেই, মানুষ খুঁজে বেড়াচ্ছে বিকল্প বাসস্থানের। এরকম গল্প আমি ডজন খানেকের উপরে সাইফাই মুভিতে দেখেছি। মূলত সাইফাই লেখক আর নির্মাতারা ধরেই নেন একটা ভালো মারদাঙ্গা মুভি হতে হলে পৃথিবীর বারোটা বাজিয়ে তারপর শুরু করতে হবে ছবির গল্প। একটু মনে করে দেখুন বিগ বাজেটের অনেকগুলো ছবি গত কয়েক বছরে এই একই রকম সুচনা দিয়ে শুরু হয়েছে।

কাজেই গল্পে কোন ধরনের নতুনত্ব নাই। পৃথিবী বাতিল মাল এখন আর UTS এর মত কোম্পানি কৃত্তিমভাবে কক্ষপথে মানুষকে বসবাসের সুযোগ করে দিচ্ছে। কিন্তু তাদের মূল লক্ষ থাকে কিভাবে মঙ্গলকে বসবাস এবং ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া যায়।

UTS কর্পোরেশনকে প্রথম থেকেই নেগেটিভ ভাবে দেখানো হয়েছে। আর এর প্রতিষ্ঠাতা জেমস সুলিভানকে ভিলেন। জেমস সুলিভান পৃথিবীকে ধ্বংস করে মঙ্গলে বাসের পক্ষে। সেজন্য একটা বাচ্চা হিউমেনয়েড রোবটও বানায় সে। ছবিতে যদিও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় না এই ডরোথি নামক বাচ্চাটা কিভাবে ফুটে যাবে।

কোরিয়ান ছবি কিন্তু আমার বেশ ভালো লাগে। ভালো গল্পের আউটলাইন থাকে, থাকে মানুষ হিসেবে অভিনয় করার দূর্দান্ত চেষ্টা। হলিউডি মুভিতে যেখানে আবেগে কমে যায়, সেখানে কোরিয়ান মুভিতে আবেগকে প্রাধান্য দেয়া হয়। তাই বলে আবার বলিউডি ঢঙ্গে নাচ-গান আর গ্লিসারিনের বন্যা দিয়ে নয়। স্পেস-জাঙ্ক কালেক্টর একটা শিপ আর এর ক্রুরা কিভাবে জড়িয়ে যায় UTS এর মত বড় কোম্পানির চক্রান্তের বিরুদ্ধে আর জিতে যায় তাদের আবেগ, সেটাই দেখবেন এই ছবিতে।

আসুন, একটু অন্যভাবে চিন্তা করা যাক। ইলন মাস্ক অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন মঙ্গলে মানব বসতি স্থাপনে করাটা তার জীবনের একটা লক্ষ্য। তার সম্পদের অর্ধেকটা তিনি ব্যায় করবেন পৃথিবীর কল্যানে আর বাকিটা ব্যায় করবেন মঙ্গলে। অপরদিকে অনেকেই মনে করেন ইলন আসলে একটা স্ট্যান্ট বাজি করছেন। তার উচিত পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার পেছনে সময় আর অর্থ দেয়া। সেট বাদ দিয়ে মঙ্গলে গিয়ে মঙ্গল খোঁজাটা কারো জন্যই মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে না। আলিবাবা খ্যাত চিনের ধনকুবের জ্যাক মা এদের মধ্যে অন্যতম।

এর দ্বিমতও আছে অনেক। যেমন আমি নিজেই মনে করি মানুষ হিসেবে আমাদের দুই গ্রহের বাসিন্দা হওয়াটা খুব জরুরী। এই ছবির গল্প এবং চরিত্রের মূল ভাবনাটা আমি অনেকটা ইলন মাস্কের সাথে তুলনা করতে পারছি। ছবির গল্পকার বর্তমান সময়ের একটা গরম বিষয়কে তুলে নিয়ে এসেছেন এবং ঘটনাক্রমেই হোক আর ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক জেমস সুলিভানকে ভিলেন বানিয়েছে।

কি বুঝলেন?

আমি আসলে একটু বেশি কল্পনা প্রবন মানুষ।

ছবির মিউজিক তেমন উচ্চমার্গীয় কিছু লাগেনি আমার কাছে। গ্রাফিক্সে যথেষ্ট মুন্সিয়ানার ছাপ আছে। অনেকটা থ্রি-ডি এনিমেশন ধরনের। দেখতে খারাপ লাগে না। চমৎকার সময় কেটে যাবার মত একটা সাই-ফাই মুভি।

লেখালেখিটা পেশা নয় বরং নেশা হিসেবে নিয়েছি। যা কিছু ভালো লাগে তাই লিখে যাই অনবরত। আমাদের আশে পাশে এত এত রহস্যের জাল ছড়িয়ে আছে, সেসব দেখতে দেখতে এক মানব জীবন কখন কেটে যাবে টেরই পাবো না!

মতামত দিনঃ