ইচ্ছে করছে উঠোনে দাঁড়িয়ে ঝুম বৃষ্টিতে ভিজি,
ভিজতে থাকি, ভিজতে থাকি, ভিজতেই থাকি,
বারান্দার এলো বাতাসে ভিজতে থাকা ডোরবেলটা
টুংটাং শব্দ ছড়িয়ে আমার মনের মতো করে নেচে যাক
আর কচু পাতায় টলমল করে ওঠা জলের মতো
এদিক-সেদিক সরে যাক সময়,
জানালার কাচ বেয়ে গড়িয়ে পড়া সরল জলের মতো
ভালোবাসার সরলতায় যেয়ে স্থির হোক সবটুকু নিশ্বাস।
মেঘের চোখে আজীবন জমে থাক বিন্দু বিন্দু আবেগ।
ধুলোবালির মতো আমি ভিজতেই থাকি।
পায়ের পাতায় লুটোপুটি খেলুক রাজ্যের কাঁদা-জল।
বৃষ্টির তোড়ে ঝরে পড়া কাঠগোলাপ ভেজা চুলে আশ্রয় খুঁজুক,
তাই দেখে সজনে পাতার স্নিগ্ধ সবুজ হাসতে হাসতে কেঁপে উঠুক।
দেওয়ালের শরীরে জড়িয়ে থাকা শামুকগুলোও নড়েচড়ে উঠুক খানিক।
গাছগাছালির গা বেয়ে ছন্দ তুলুক জলের মাদুলি।
চোখের পাতায় এতো বৃষ্টি নেমে আসুক
যে হারিয়ে যাক সমস্ত অশ্রুগুলি।
প্রিয়তম, বৃষ্টি হয়ে উঠুক তোমার আরেক নাম
আর আমি জন্মের মতো ভিজতেই থাকি,
ভিজতে ভিজতে হারিয়ে ফেলি নিজেকে কোনো বাঁকে,
ঠিক যেভাবে নিজেকে হারিয়ে ফেলতাম তোমার কথার পাঁকে।
ছলোছলো হাওয়ারাই খুঁজে ফিরুক আমাকে
সবুজের ফাঁকে ফাঁকে;
বৃষ্টিবন্দি শহরের আনাচে-কানাচে।


কবিঃ বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের বিখ্যাত এক জেলা ঠাকুরগাঁয়ে তার জন্ম। শৈশব থেকেই কবি নন, তবে জীবন তাকে উপহার দিয়েছে অনেক কবিতা। জীবনের প্রয়োজনে প্রিয় স্বদেশ আর শৈশবের টাঙ্গন থেকে দূরে আছেন এই কবি।

নিপা খান এ প্রজন্মের কবি। শব্দের বেড়াজালে বেঁধে নিয়েছেন প্রতিবাদ আর প্রতিশ্রুতির হাতিয়ার গুলোকে। “বুনো মেঘ” “অর্ধেক দেবদারু” তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মতামত দিনঃ