ভৌমিক দা!
আপনি ভুলে যান
কবিদের ও মন আছে,
কবিতার বাহিরেও তাদের
নিজস্ব কিছু কথা থাকে
থাকে নিরেট এক দুঃখবোধ
বা বিষাদের শিথান।

শহর জুড়ে এত লোকের ভিড়ে
তাদেরও একা লাগে
বুকের ভেতর বয়ে যায় কখনো সখোনো
ঝরা পাতার শোক।

বহুবার আপনাকে চিঠি লিখতে গিয়ে
থেমে গেছে কলমের আঙ্গুল,
তবু, আমার অনুভূতিরা ফিরে গেছে
সেই আপনার কাছেই!
যেন আপনি সামনে এলেই
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে হতো
জোনাকিদের আলোচ্ছ্বাস!

প্রতিরাতে বিষাদের রাক্ষসেরা
জানালার শিক ধরে কতবার ঘুরে যেত
তার হিসেব কেউ রাখেনি,
কতশত অদ্ভুত সুন্দর মুহূর্ত কেটে গিয়ে
আজ তা পলি মাটির আস্তরণে চাপা পড়ে
ধ্বংসস্তুপে মিশে গেছে
তা আমি আপনি ছাড়া কেউ জানে না!

অথচ কবিতার বাইরে গিয়ে
আপনি আমায় প্রেমিকা ভাবেননি,
বুক ভর্তি কাঠ গোলাপ
খই ভাঁজা কথার ফাঁকে
জমে থাকা উষ্ণতা,
আপনার চোখে পড়েনি
হয়তো সে কারণেই কবি
আজ ভেঙ্গে গেছে
বিষাদের নদীর ভাঙ্গনে!
থেমে গেছে জীবনের সকল কোলাহল
ঘুমকে বিক্রি করে তাই
একা একা কিনে রাখি
জলজ শিশির।

ভৌমিক দা!
আপনি আমায় ভালোবাসেন কিনা
এর উত্তর আজ আর খুঁজে ফিরি না।
শুধু জেনে রাখুন,
আপনার বুক থেকে শোকা পারফিউমের ঘ্রাণ
নাক থেকে খসে পড়েনি এখনো,
এখনো মাঝ রাত্তিরে
চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করি যখন
প্রায়শই নাক গলে ফিরে আসে
সেই চিরচেনা ঘামে ভেজা সুগন্ধি ঘ্রাণ!
যার ঘ্রাণে আমার আট পৌরে ঘুম বালিশে
ছুঁয়ে গেছে যৌবনের উচ্ছ্বসিত প্রেম!
এরপর হতে বহুদিন
ঘুমাই না আমি।

ভৌমিক দা,
শুধু কবিতাই সব নয়,
জেনে রাখুন,
মাঝে মাঝে কবিকেও সময় দিতে হয়
পাশে বসে বলতে হয়
দু চারটে কথা,
শুধু কবিতা নয়,
কবিকেও আগলে রাখতে হয়
বুক পকেটে
আজন্ম প্রেমিকের মতন।।