করাত দিয়ে রাত কাটার শব্দ হয়,
আমি শুনতে পাই;
ঘষ্ ঘষ্ ঘষ্…একটানা
আর খণ্ড খণ্ড হয়ে যায় রাত।

রোদটাতে ঘামে ভেজা দুপুরের ঘ্রাণ পাই মাঝে মাঝে।
ঠিক ওভাবে জানো-
ঐ যেমন ড্রেজিং-এর অভাবে শুকিয়ে যাওয়া নদীটায়
ঘুরঘুর করা বকটা রোগাটে একটা মাছ মুখে পেলে
কী আনন্দে ডানা মেলে উড়ে যায়,
ঠিক ওভাবেই।

তারপর বুঝতে পারি
করাত দিয়ে রাত কাটার মাঝে পড়ে গেছে স্বপ্নটা।
পুনরায় আরেকটা খণ্ডে কী হয় জানো?
আমরা যখন হাত ধরে হেঁটে যেতাম
আর পীচঢালা সরু পথের ওপর পড়ে থাকা খড়ের শুষ্কতা
কেমন একটা ছন্দ তুলতো-
ঐ শব্দটা পাই আমি।

সমস্ত পাগলামীগুলো বরফগলা জলের মতো
কূলকূল বয়ে যায় আরেকটা খণ্ডে,
ওটা সবসময় কাঁচের মত স্বচ্ছ মনে হয় জানো?
মনে হয় এই’ত, এই’ত তুমি
পথ চলতি ফেরীওয়ালাটাকে থামিয়ে দু’টাকার টিপের পাতাটা কিনলে,
আমি হাসতে হাসতে কপালে পরলাম যখন
পুরো পৃথিবীটা তখন তোমার দু’চোখে!

আমি ঘাস ফড়িং ধরার মতো
তোমার ঠোঁটের কোণের হাসিটাকে ধরতে –
হাতটা বাড়িয়ে দিয়েও ভাবছি ওটা যেন উড়ে না যায়।

টং দোকানের চায়ের কাপটা এখনো মুখস্থ করে রেখেছে
আমাদের হুটহাট ঝগড়া-ঝাটি,
আমি এইসব খণ্ডিত চিত্রও দেখতে পাই।

লঙ্কা-কাণ্ড শেষে ভীষণ আপোষে সন্ধ্যেবেলা বৃষ্টি নামায়
নুয়ে পড়া কাঁঠাল পাতাগুলোর আলিঙ্গনে –
কেমন একটা সজীবতা থাকতো!

কোন স্বপ্ন ছিল না বলেই হয়ত সময়গুলো এতটা স্বাপ্নিক ছিল।
বাস্তবে তো নয়ই,
এসব খণ্ডিত স্বপ্নের ভেতর হাতড়ে হাতড়েও
নিজেকে কোথাও দেখতে পাই না আমি।

দেখি কেবল একটা করাত আর –
ঘষ্ ঘষ্ ঘষ্।


দিনান্ত 1

বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের বিখ্যাত এক জেলা ঠাকুরগাঁয়ে তার জন্ম। শৈশব থেকেই কবি নন, তবে জীবন তাকে উপহার দিয়েছে অনেক কবিতা। জীবনের প্রয়োজনে প্রিয় স্বদেশ আর শৈশবের টাঙ্গন থেকে দূরে আছেন এই কবি।

নিপা খান এ প্রজন্মের কবি। শব্দের বেড়াজালে বেঁধে নিয়েছেন প্রতিবাদ আর প্রতিশ্রুতির হাতিয়ার গুলোকে। “বুনো মেঘ” “অর্ধেক দেবদারু” তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মতামত দিনঃ