ঘুড়ি-প্রজাপতি-গাছ-পাখি এসব আঁকতে আঁকতে
একদিন মেয়েটি এঁকে ফেলল ঝুম বৃষ্টি ভরা একটি পথ,
নীল গাউন-খোলা চুলে লাল ছাতা ঘুড়িয়ে
এক ষোড়শী বালিকা হেঁটে চলেছে সে পথে।

অনেক পরে বুঝেছিল মেয়েটি-
বাস্তবের ক্যানভাস কখনো অমন হয় না।
বাস্তবের ক্যানভাসে কতগুলো অযাচিত চোখের লোলুপ দৃষ্টি
গিলে খায় ষোড়শীর শরীরের সবকটি ভাঁজ,
নীল গাউনে আচমকা ছিঁটকে আসা কাঁদাগুলো দেখে
নিজেকে একটু সামলে উঠতে না উঠতেই
কানের কাছে শুনতে হয় অশ্রাব্য কিছু শব্দ-বর্ণ-বাক্য,
শরীরের সাথে এমনভাবে ধাক্কা দিয়ে চলে যায় কেউবা
যে ঘিনঘিন করে ওঠে গা।
এরপর মেয়েটি আঁকতে শিখেছিল সত্যিকারের ছবি।

এখন আর স্বপ্নজালে জড়ায় না মেয়েটির ক্যানভাস।
বরং ক্যাসভাসের ভেতর থেকে কথা বলে ওঠে
তার তুলির প্রতিটি আঁচড়।
এখন আর স্বপ্নজালে জড়ায় না তার ক্যানভাস,
আর এভাবেই দিনে দিনে হত্যা করা হয়
মেয়েটির কোমল আবেগময় দু’চোখভরা স্বপ্নগুলোকে।


কবিঃ নিপা খান, বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের বিখ্যাত এক জেলা ঠাকুরগাঁয়ে তার জন্ম। শৈশব থেকেই কবি নন, তবে জীবন তাকে উপহার দিয়েছে অনেক কবিতা। জীবনের প্রয়োজনে প্রিয় স্বদেশ আর শৈশবের টাঙ্গন থেকে দূরে আছেন এই কবি।

নিপা খান এ প্রজন্মের কবি। শব্দের বেড়াজালে বেঁধে নিয়েছেন প্রতিবাদ আর প্রতিশ্রুতির হাতিয়ার গুলোকে। “বুনো মেঘ” “অর্ধেক দেবদারু” তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মতামত দিনঃ