Kin - সাইফাই মুভি রিভিউ
  • গল্প
  • চরিত্র
  • অভিনয়
  • মিউজিক
  • গ্রাফিক্স
  • সিনেমেটোগ্রাফি
3.8

শেষ হইয়াও হইল না শেষ -

মুভি শেষ হয়ে যাবার পরও যখন মনে আফসোস থেকে যায়, আরেকটু দেখানো গেলে মনে হয় ভালো হোত, এখানেই পরিচালকের স্বার্থকতা। কিন্তু যখন আপনি ধরতেই পারবেন না এটা সাইফাই মুভি নাকি ফ্যামিলি ড্রামা তখন একটু খটকা থেকে যায়। পুরো ছবিতে গল্প বলার ঢং এ কিছুটা নাটকীয়তা রয়েছে। বিশেষ করে যেভাবে ছবি শেষ হয় তাতে মন ভরে না। মনে হয় আরেকটা পর্ব হলে ছবিটা মন্দ হোত না।

অনেক সম্ভাবনাময় একটা গল্প হুট করে মরে যাওয়াটা ভালো লাগে নি।

"Kin (2018)" - সাইফাই মুভি রিভিউ 1

মুক্তির সময়ঃ নভেম্বর ২০, ২০১৮
ডিরেক্টরঃ Jonathan Baker, Josh Baker
অভিনয়ঃ Myles Truitt as Elijah; James Franco as Taylor Balik; Jack Reynor as Jimmy; Zoë Kravitz as Milly; Dennis Quaid as Hal

সাই-ফাই দর্শকেরা একটু নড়ে চড়ে বসুন। বিশেষ করে আমাদের দেশের যারা সায়েন্স ফিকশন মুভি ভক্ত আছেন তারা। আজকে অন্যরকম একটা সায়েন্স ফিকশন মুভির কথা বলব। ছবির নাম KIN, ২০১৮ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ছবি। অনেকে হয়ত দেখে ফেলেছেন আগেই, কিন্তু আমি অদ্ভুত ভাবেই এই ছবিটা দেখি ২০২০ সালে এসে।

খুবই আন্ডাররেটেড মুভি। এর অবশ্য কারনও আছে, গল্পের ধারাবাহিকতার কারনে।

মজার বিষয় হল, এই ছবির ট্রেলারও আমি আগে দেখিনি। মাত্র দুদিন আগে দেখলাম সাই-ফাই এর শর্ট ফিল্ম দেখতে গিয়ে। আপনারা অনেকেই হয়ত ইউটিউবের জনপ্রিয় সাই-ফাই চ্যানেল “DUST” এর নাম শুনেছেন বা তাদের চ্যানেলের শর্ট ফিল্ম গুলো দেখেছেন। আর যারা দেখেননি বা এই চ্যানেলের নাম জানেন না, তাদের জন্য রইল এক বালতি সমবেদনা।

চট জলদি তাদের ইউটিউব এবং ফেইসবুক পেইজে লাইক দিয়ে ফেলুন। তো যা বলছিলাম, যে শর্ট ফিল্মটি দেখতে গিয়ে আমি KIN এর ট্রেইলার দেখেছি সেটার নাম “ব্যাগ ম্যান” । নিচে ভিডিও শেয়ার করে দিলাম দেখতে পারেন ভূমিকা হিসেবে।

কাহিনী সংক্ষেপঃ

KIN ছবির গল্প একটু বলে নেয়া যাক। ছবিতে ইলাই সোলন্সকি নামের এক কিশোরকে দেখা যায়। সে স্ক্রাপ কপারের তার জমিয়ে (চুরি) বিক্রি করত। এরকম করার সময় একটা পরিত্যাক্ত বিল্ডিং এর মাঝে সে একটা সুপার হাই-টেক অস্ত্র (লেজার বিম গান) খুঁজে পায়। প্রথম দিকে বুঝতে না পারলেও পরে সে বুঝতে পারে এর ক্ষমতা।

তার সৎ ভাই জিমি, জেল থেকে সদ্য মুক্তি পাওয়া কয়েদি। অনেক টাকা দেনা নিয়ে সে এলাকার ক্রাইম লর্ডের সাথে ঝামেলা পাকিয়ে ফেলে। এবং শুটআউটে তাদের বাবা মারা যাবার পর ইলাই আর জিমি প্রানের ভয়ে পালায়। ইলাই তার হাইটেক অস্ত্র সাথে নিয়ে পালাতে ভোলেনি।

কিন্তু তাদের পেছনে পড়ে একদল খুনি, পুলিশ এবং দুজন সুপার সোলজার যারা ইলাই এর কাছে থাকা তাদের অস্ত্রটি ফেরত চাইছিল।


গল্প মোটামুটি ভাবে এই ধাঁচে আগালেও এটা আসলে কোন জেনারের ছবি সেটা বুঝতে একটু বেগ পেতে হয়। নিঃসন্দেহে DUST এর শর্ট ফিল্ম অনেক প্রশংসার দাবি রাখে, কিন্তু যখন গল্পটা একোটা পুরো মুভিতে রুপান্তর করা হয় তখন সব কিছু কেমন যেন গুলিয়ে গেছে।

একটা ক্রাইম স্টোরি, রোড ট্রিপ, ভাইয়ে ভাইয়ে মিলের মত ফ্যামিলি ড্রামা, সুপার সোলজার, হাইটেক অস্ত্র – সব কিছু মিলিয়ে আপনি একে পুরোপুরি সাইফাই মুভির কাতারেও ফেলতে পারবেন না।

এসকল কারনেই কি যেন একটা বলা হয়েও বলা হয়ে ওঠেনি এই ছবিতে। ছবির শেষ দৃশ্যও অত্যন্ত নাটকীয় ভাবে ঘটে। আর কিছুটা ব্যখ্যার দাবি রাখে, অথবা পরিচালক ইচ্ছে করেই এমনটা করেছেন যাতে দর্শকের কিছুটা হতাশা রয়েই যাবে।

সব মিলিয়ে আমার কাছে মোটামুটি ভালো লাগলেও অনেক দর্শকই একে হতাশাজনক বলেছেন। তবে আমি বলি কি, একবার নিজেই দেখুন ছবিটি। এডভেঞ্চার সাইফাই হিসেবে মন্দ নয়। বিশেষ করে ইলাই এর ভূমিকায় মাইলস এর অভিনয়। অন্য পরিচিত মুখ বলতে একমাত্র জেমস ফ্রাঙ্কো, যথারীতি তার সেরাটা দিয়েছেন ছবিতে ভিলেনের ভূমিকায়।

মতামত দিনঃ