বাংলাতে মাসুদ রানার বাইরে খুব বেশি ভালো থ্রিলার আমি পড়ি নাই। আমার কাছে কাজী আনোয়ার হোসেনের মাসুদ রানাকেই তাই স্টান্ডার্ড বলে মনে হয়। জান্তবের লেখক ডিউক জন কাজীদার সাথে মাসুদ রানা সিরিজের শকওয়েব বইটি লিখেছেন। সে হিসেব ধরে নিয়েই আমি বইটি কিনেছিলাম।

বাংলাতে মৌলিক থ্রিলার কারা লেখে বলতে পারেন? হাতে গোনা কয়েকজন। নাজিমুদ্দিন মনে হয় তাদের মধ্যে সর্বাধিক পঠিত লেখক। তারপর আছেন বাদল সৈয়দ। আমার তালিকায় নতুন যোগ হলেন ডিউক জন।

তার জান্তব বইটাতে তিনি এমন একটা পৃথিবীর কথা বলেছেন যেখানে প্রানীরা অদ্ভুত একটা কারনে মানুষের বিরুদ্ধে চলে যায়। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম এটা একটা সাই-ফাই গল্প। সে আশায় গুড়ে বালি। বিজ্ঞানীদের কথা আছে, কিন্তু বিজ্ঞানের কোন কথা নাই। এটা একটা জম্বী গল্পের এদিক ওদিক। এখানে মানুষের বদলে জম্বী হচ্ছে সকল জন্তু, জানোয়ারেরা। তারা মানুষ পেলেই আক্রমন করছে।

জন্তু জানোয়ারের কেন মানুষের বিরুদ্ধে গেলো? কারন মোবাইল ফোনের রেডিয়েশনে পরিবেশে থাকা হাইড্রোকার্বন ভেঙে যাচ্ছে। প্রানীরা মানুষের নিঃশ্বাস থেকে এমন একটা ফেরোমেন পাচ্ছে যাকে তারা আক্রমনের উপাদান হিসেবে ধরে নিচ্ছে।

আহ… এই লাইনটুকু পড়ে আমার যুক্তিবাদী মন নিজেকে কষে একটা লাথি দিতে চাইল। মোবাইলের রেডিয়েশন, ফেরোমেন ইত্যাদি, তার উপর আবার হাড্রোকার্বন ভেঙে যাওয়া, এতগুলো বুলশিট দিয়ে একটা গল্পের প্লট দাঁড় করানোর কি দরকার ছিল?

এরপর যেকোন জম্বি মুভির মত, সমসার একটা সমাধান খুঁজে পেতে বিজ্ঞানীরা একজোট হলেন। রাষ্ট্রপ্রধানেরা, বিশেষ করে আমেরিকা এতে লিড দিচ্ছে। বাঙালী এক বিজ্ঞানী জাহিদ এই গ্রুপের সদস্য। তার ভাষ্যমতেই গল্পের প্লট এগিয়ে গেছে।

একশন আছে, ট্রাভেল আছে, কিছু স্থানের নাম আছে। কিন্তু যে জিনিসটা অনুপস্থিত এই পুরো উপন্যাসে সেটা হচ্ছে সত্যিকারের তথ্য আর সমাধানের রাস্তা। বইটা হুট করে শেষ হয়ে গেছে গল্প শেষ না করেই।

এক কথায় পয়সা এবং সময় দুটোই নষ্ট। তবে ডিউক জনের লেখার হাত চমৎকার সেটা বলতে হবে। আরেকটু ভেবেচিন্তে লিখলে বইটা ভাল হতে পারত।