Extraction (2020) - মুভি রিভিউ
  • গল্প
  • চরিত্র
  • অভিনয়
  • মিউজিক
  • গ্রাফিক্স
  • সিনেমেটোগ্রাফি
3

Extraction (2020) - হতাশা জাগানো মারদাঙ্গা একশন ফিল্ম

গল্পটা শুরু হয় এরকম ভাবে, ইন্টারন্যাশনাল এক ড্রাগ লর্ডের ছেলেকে কিডন্যাপ করে নিয়ে আসা হয় ঢাকাতে। তাকে উদ্ধার করার দায়িত্ব দেয়া হয় টাইলর রেইক নামের এক মার্সেনারিকে।

গল্পে নতুনত্ব তেমন একটা নাই। সবাই বসে ছিলো ক্রিস হেমসওর্থ এর একশন আর ছবিতে ঢাকাকে কিভাবে দেখানো হয়েছে সেটা দেখবার জন্য।

আশার গুড়ে বালি দিয়ে বাংলাদেশের দর্শকদের হতাশ করেছে এই ছবি। অভিনয়ে উতরে গেলেও লোকেশন, ভাষা আর একশনের ভুল-ভ্রান্তি কারোই চোখ এড়ায়নি।

Director: Sam Hargrave
Writers: Joe Russo (based on the graphic novel “Ciudad”, from a story by), Joe Russo (script)
Stars: Chris Hemsworth, Rudhraksh Jaiswal, Shivam Vichare

Extraction (2020) - মুভি রিভিউ 1

ক্রিস হেমসওর্থ কে দেখার জন্য বাঙালী যতটা না পাগল ছিল, তার থেকে বেশি আশায় ছিল এই ছবিতে ঢাকাকে কিভাবে দেখানো হয় সেটা নিয়ে। আমার মত আরো অনেকেই তাই নেটফ্লিক্সের সাথে দিন গুনছিলাম। করোনার এই মহামারীতে বাসায় বসে মার্ভেল ইউনিভার্সের থর খ্যাত ক্রিস হেমসওর্থকে নিয়ে তাই অনেক আশা ছিল।

না, অভিনয়ে তিনি আমাকে কোন ভাবেই নিরাশ করেননি। সেই দীর্ঘ দেহাবয়ব, প্রফেশনাল কিলারের মত নিস্পৃহ চাহনি আর চিতার ক্ষিপ্রতা সব কিছুই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন ছবিতে। একজন মার্সেনারির যে রকম হবার কথা।

কিন্তু বাধ সেধেছে বাকিদের ভাষা আর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে। ক্রিসের ধারে কাছেও কেউ যেতে পারেনি অভিনয়ে। আর পশ্চিমবঙ্গের ভাষা আর ঢাকাই ভাষার মধ্যে যে আকাশ পাতাল তফাৎ আছে তা ঢাকার বাসিন্দা হবার কারনে খুবই কানে লেগেছে। পুরো মুভি জুড়েই এটা ছিল বিরক্তি কর একটা কারন।

আপনি একটা মুভির প্লট করবেন ঢাকার উপর ভিত্তি করে, কিন্তু ঢাকা নিয়ে আপনার কোন রিসার্চ থাকবে না তা কিভাবে হল? কি আজিব!

শুটিং এর সিংহভাগই হয়েছে ঢাকার বাইরে। শুধুমাত্র উপর থেকে কিছু ড্রোন শটে ঢাকা আর বুড়িগঙ্গার কিছু এলাকা দেখানো হয়েছে। এরপর চলে গেছে পশ্চিমবঙ্গের কোন সেটে। তাই ঢাকাই দর্শকদের জন্য সমবেদনা।

ছবিতে ভুলভাল প্রচুর। ভাষার কথাতো বললামই। সেই সাথে আছে রাস্তা ঘাট আর ঘরবাড়ির ভেতরের একশন দৃশ্যগুলো নিয়ে। এইটাইপের বাড়ি পুরান ঢাকা অঞ্চলে দেখা গেলেও কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না বুড়িগঙ্গার আশেপাশে এত বড় একজন মাফিয়া গডফাদার আছে। দেশীয় এলিট বাহিনীর সাথে আবার তার ব্যপক দহরম মহরম।

বুড়িগঙ্গার আশেপাশে এত বড় জঙ্গলও নাই। আরো ভালো হত যদি দেখান যেত ছেলেটাকে নিয়ে ঢাকা থেকে বের হয়ে বান্দরবন বা এরকম কোন জায়গায় চলে গিয়েছে। তখন জঙ্গলের অহেতুক মারমারির দৃশ্যটাকে জাস্টিফাই করা যেত।

সিএনজি চালিত অটোরিকশাকে এই ছবিতে একটা ট্রেডমার্কে রুপান্তর করা হয়েছে। ঢাকার রাস্তা বোঝানোর জন্য একটু পরপরই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে সবুজ রঙের সিএনজিকে। কিন্তু হায় এই ধরনের সিএনজি ঢাকা শহরে নাই। তারপর দোকানের ব্যানার, গাড়ির নেইমপ্লেট, ট্রাকের মডেল, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক সব কিছুতে গাফিলতি। ভিএফেক্স দিয়ে দায়সারা ভাবে ঢাকার দৃশ্যপট বানানোর চেষ্টা করা হলেও তা মাঠে মারা গেছে।

ঠিক আছে আমি ধরে নিলাম, আপনি পরিচালনার সময় নানা কারনে সরাসরে দেশের বাহিনীর নাম এবং পোষাক ব্যবহার করতে পারবেন না। তাই বলে এত ঢিলেঢালা হলে চলবে? ঢাকার পুলিশ, এলিট ফোর্স (ডুপ্লিকেট র‍্যাব) এরকম অস্ত্র ব্যবহার করে? এভাবে আমাদের পুলিশ অস্ত্র ধরে? একরাশ আবর্জনা আপনার জন্য।

ঢাকার রাস্তাঘাটের যে চিত্র দেখিয়েছেন তা কি আসলে সোমালিয়াকে মনে করে বানিয়েছেন? শিশু সোলজার পেলেন কোথায়? তাও আবার AK-47 সহ। এখানকার ক্রাইম লর্ড হলেও এরকম করবে না।

শয়ে শয়ে পুলিশ আর এলিট ফোর্স মারা গেল গুলি চালানোর আগেই। তারপর আবার বাজুকা নিয়ে আসছেন মারামারি দেখাতে… হোয়াট দ্যা ফুচকা ম্যান?

একশন অসাধারন করেছেন ক্রিস হেমসওর্থ কিন্তু দৃশ্যপটের গাফিলতিতে সব মাঠে মারা গেল। এইরকম গোজামিলের ছবির থেকে আমাদের আরেফিন শুভর “ঢাকা এট্যাকে” পুলিশকে আরো বেশ ভালভাবে দেখানো হয়েছে।

অবশ্য আমরা যত যা-ই বলি না কেন, ডিরেক্টর তার মনের মাধুরী মিশিয়ে ঢাকেকে সোমালিয়া বানানোর চেষ্টা করেই গেছেন অসফল ভাবে।

ছবি দেখে আপনার কি মনে হয়েছে? আপনিও কি এরকম মারদাঙ্গা একটা ছবি দেখার পরেও হতাশ?

লেখালেখিটা পেশা নয় বরং নেশা হিসেবে নিয়েছি। যা কিছু ভালো লাগে তাই লিখে যাই অনবরত। আমাদের আশে পাশে এত এত রহস্যের জাল ছড়িয়ে আছে, সেসব দেখতে দেখতে এক মানব জীবন কখন কেটে যাবে টেরই পাবো না!

মতামত দিনঃ