অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালবেন কিন্তু খাবার দেবেন না, তাতো হতে পারে না! এ পর্বে জানানো হল ছোট মাছের খাবার অপ্টিমাম ফিস ফুড সম্পর্কে।

বাংলাদেশের অ্যাকুরিয়ামে মাছ পালনকারীদের কাছে মাছের খাবার হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত একটি নাম হলো “অপ্টিমাম ফিস ফুড (প্যালেট/মাইক্রো প্যালেট)“। ছোট-মাঝারী সাইজের মাছের জন্য এটি বহুল প্রচলিত একটি খাবার।

বর্তমানে বাংলাদেশের অ্যাকুরিয়ামে ছোট সাইজের মাছ পালনকারীদের মধ্যে বিশেষ করে যারা নতুন এবং মোটামুটি বছর খানেক এই রঙ্গীন মাছ পালনের জগতে আছেন তাদের কাছে অপ্টিমাম ব্র্যান্ডের মাইক্রো প্যালেট বেশ জনপ্রিয়।

তাই যারা প্রতি নিয়ত রঙ্গীন মাছ পালনের জগতে নতুন হিসেবে আসছেন, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে আজ এই লেখায় অপ্টিমাম ব্র্যান্ডের মাইক্রো প্যালেট ফিস ফুডের রিভিউ করবো।

প্রথমেই এর প্যাকেজিং লুকে। দেখতে বেশ ভালোই। প্যাকেজিং এর কালার চোখে পড়ার মতো। প্যাকেটের ম্যাটেরিয়াল বেশ শক্ত-পোক্ত প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি তাই সহজে ছিড়ে যাওয়ার ভয় নেই।

অ্যাকুরিয়ামে মাছের খাবারঃ অপ্টিমাম ফিস ফুড 1

বাংলাদেশে অপ্টিমাম ব্র্যান্ডের মাইক্রো প্যালেট ফিস ফুডের দুইটি সাইজ পাওয়া যায়। একটি ৩০ গ্রামের প্যাকেট এবং আরেকটি ৫০ গ্রামের প্যাকেট। বিভিন্ন জায়গায় সাইজ প্রতি দাম ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

এই প্যাকেটের প্যালেটগুলোর আকার বেশ ছোট, তাই ছোট থেকে মাঝারী সাইজের মাছেরা সহজেই এই খাবারটি খেতে পারে। প্যালেট খাবারের প্রধান সমস্যা হচ্ছে এটি পানির সংশপর্শে আসলেই ফুলে যায়। এই প্যালেটটি আকারে ছোট হওয়ায় ফুলে যাওয়ার পরিমাণও কম।

এই খাবারটি বিশেষভাবে বিভিন্ন জাতের ছোট মুখওয়ালা মাছের জন্য (যেমন, গাপ্পি, টেট্রা, অ্যাঞ্জেলফিস, বার্ব ইত্যাদি) তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক রঙ বর্ধক হিসাবে স্পিরুলিনা সাথে বিভিন্ন সুরক্ষিত ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ আপনার মাছকে প্রাণবন্ত এবং স্বাস্থ্যকর রাখে। মাছের বেশি পরিমাণে বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি সুস্বাদু দৈনিক খাবার।

স্পিরুলিনায় উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক পিগমেন্ট যেমন, ক্লোরোফিল, ক্যারোটিনয়েডস এবং ফাইকোকায়ানিন রয়েছে যা মাছের স্বাভাবিক রঙ-কে বৃদ্ধি করে। অতিরিক্তভাবে, ক্যারোটিনয়েডগুলি আসলে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মাছের প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে।

খাবারটি মাছের বিভিন্ন ধরণের স্ট্রেস কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ।

খাবারের উপাদান সমূহঃ

ফিস মিল, গম, ভুট্টা, ভুট্টার গ্লুটেন মিল, সয়াবিন মিল, চিংড়ী মিল, স্পিরুলিনা, মাছের তেল, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ।

খাবারে পুষ্টির পরিমাণঃ

  • ক্রুড প্রোটিন ৩২%
  • ক্রুড ফ্যাট ৪%
  • ক্রুড ফাইবার ৪%
  • ময়েশ্চার/আদ্রতা ১০%

খাওয়ানোর নির্দেশাবলীঃ

প্রতিদিন ২-৩ বার করে মাছকে খাওয়ান। খাবারটি পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিটিয়ে দিন যা মাছগুলি ১৫ মিনিটের মধ্যে খেয়ে ফেলতে পারে।

অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়াবেন না কারণ, না খাওয়া খাবারগুলো পরবর্তীতে অ্যাকুরিয়ামের সামগ্রিক পানির গুণমান হ্রাস করবে।

সামগ্রিকভাবে, কম দামের মধ্যে খাবারটি মোটামুটিভাবে ভালোই। এই খাবারের যে বিষয়গুলো আমাদের কাছে ভালো লেগেছে, সেগুলো হলো-

১। খাবারের মধ্যে থাকা রঙ্গক অ্যাকোয়ারিয়ামে থাকা মাছের স্বাভাবিক রঙ বাড়ায়।
২। খাবারটি ভিটামিন সি এবং ই সমৃদ্ধ যা মাছের বিভিন্ন ধরণের স্ট্রেস কমাতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সহায়তা করে থাকে।
৩। এই খাবারটি মাছকে সম্পূর্ণ পুষ্টি সরবরাহ করে।
৪। খাবারের সাইজ ছোট হওয়ার কারণে পানিতে সহজে পড়ে থাকেনা।
৫। এটি মাছের বৃদ্ধি বাড়ায়।

এই খাবারের যে বিষয়গুলো আমাদের কাছে খারাপ লেগেছে, সেগুলো হলো-

১। বিভিন্ন ব্যবহারকারীর হিসাবে, অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়ানোর সময় কিছু মাছ মারা যায়।
২। অন্য একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন যে অ্যাকুরিয়ামে নতুন যোগ করা মাছ এই খাবারটি খায় নি।

আশা করি, যারা বিভিন্ন ধরণের খাবার মাছকে খাওয়ান তারা এখন বুঝতে পারবেন কোন ধরণের খাবার সাইজ অনুযায়ী মাছের জন্যে ভালো।

লেখায় তথ্য-উপাত্ত মূলত খাবারের ব্র্যান্ড কোম্পানী থেকে সংগ্রহ করা। ভুল-ভ্রান্তি থাকলে দয়া করে ধরিয়ে দিবেন এবং আপনাদের কোনো মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে আপনাদের মতামত জানাবেন।


লেখকঃ আরাফাত ইদ্রিস পরশ, একসময় পেশা শিক্ষকতা থাকলেও বর্তমানে শখটাকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন। জড়িয়ে গেছেন একুরিয়ামের রঙ্গিন মাছের জগতে। তার ফেইসবুক পেইজঃ Jashore Aqua Zone থেকেই ব্যাবসা পরিচালনা করছেন।

মতামত দিনঃ