মাঝে মাঝে দম নিতে ইচ্ছা করে। বাইরে গিয়া সজোরে বাতাস খাইতে ইচ্ছা করে। আলো খাইতে ইচ্ছা করে। ঘাস লতা-পাতা চাবাইতে ইচ্ছা করে। সবুজ ছুঁইতে ইচ্ছা করে। ডানা মেলে উড়তে ইচ্ছা করে। পাখনা মেলে নাচতে ইচ্ছা করে। খোলা চুলে হাঁটতে ইচ্ছা করে। নগ্ন পায়ে মাটি নিংড়ে নিঃশ্বাস ফেলতে ইচ্ছা করে। গলা হাঁকিয়ে গাইতে ইচ্ছা করে। গোটা পৃথিবী চত্বর বিকট চিৎকারে কাঁপিয়ে তুলতে ইচ্ছা করে। নদীর পাড় ঘেঁষে বসে থাকতে ইচ্ছা করে। হাঁসগুলোর থৈ থৈ করে ছুট্টে চলা দেখতে ইচ্ছা করে। রাস্তা সমেৎ কুকুর গুলোর ঘুমন্ত অসহায় লেজ গুটানোর হাল দেখতে ইচ্ছা করে। মাঝ নদীতে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য অবলোকন করতে ইচ্ছা করে। ব্রিজের পারে বসে থাকা লোকগুলোর অপেক্ষা দেখতে ইচ্ছা করে। ছাগল গুলোর কাঁঠাল পাতা খাওয়ার দৃশ্য দেখতে ইচ্ছা করে। অকারন আড্ডার মজলিস দেখতে ইচ্ছা করে।

কেহ্ বা জীবন-দর্শক হয়ে বসে আছে, তাঁরে দেখতে ইচ্ছা করে। কেহ্ হয়তো বা কারোর সান্নিধ্যে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছে ভীরু পায়ে। তারে দেখতে ইচ্ছা করছে।
কেহ্ আপন স্বতঃস্ফূর্ত বৃত্তে আটকে হাসফাঁস করছে, তারে দেখতে ইচ্ছা করছে। কেহ্ আবার কখনো সখনো এক চাপ কান্না নিয়ে প্রহর গুনছে চপল। তা্র কান্নার নোনা জল মুছিয়ে দিতে ইচ্ছা করছে। গুপ্তলিপি পড়ে আছে মুখ থুবড়ে। আমি ছন্দহীন পড়তে চাই মৃদু।

কারোর কারোর ধৃষ্টতা আবার কারোর কোমলপ্রাণ নীতিবাদী হাসি, দিনান্তে আমি তাঁর অপেক্ষায়। কেহ বা আবার রহস্যে আবৃত, কেহ্ করছে উন্মোচন। কেহ্ ঝাঁকরমাকড় একটা ছোট্ট নিঃশব্দ আততায়ী মৃত্যুর অপেক্ষায়, অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর দুর্ধর্ষ শিকারী ওঁৎ পেতে বসে রয়েছে,কড়া নাড়ছে ঠকঠক। আমি তারে দেখতে চাই অবিলম্বে। সময়ে হানা দেবে ঝড়ের বেগে ত্রিতাল মূর্তিরূপে সে’। তার অপেক্ষায় বৃথাই’ বৃত্ত পূরণের অভিপ্রায়। ফিরে পাই সম্বিৎ বহুদূর ছুটে।

অবশেষটা’য় -হাঁটছি আর হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে গাঁটকাটা।হাজারো হোঁচট হোঁৎকা খাচ্ছি। নিছক একরত্তির স্বপ্ন বুনছি আলতো ছুঁয়ে।


ইচ্ছে 1

হেপী ভৌমিক, সিলেটে বসবাস করছেন।

মতামত দিনঃ