বিষণ্ণ বাতাস আর ঝরাপাতার ভীড়ে মাঝে মাঝে
কেমন যেন উষ্কো হেসে ওঠে হেমন্তের দুপুরগুলো।

ভোরের ঝরে পড়া অসময়ের শিউলীতে শিশিরের স্নিগ্ধতা ফিকে হয়ে এলে
দুপুরের রোদগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়।
জেগে ওঠা ধুলোর শব্দ মাটির গন্ধ মেখে
পায়ে পায়ে চার দেয়ালের খুপড়িতে উড়ে আসে।

বিছানার চোখে তখন বিরান আকাশ।
মাঝ আকাশে ঘুরপাক খেতে থাকা চিলের চোখে মন।
জানালাটা পৃথিবী হয়ে যায়।
তখনও পাশের আকাশে ঘুড়ি ওড়ায় একটা কিশোর
আর ঐ বিমূর্ত ঘুড়িতে যেয়ে থামে
পৃথিবীর সমস্ত পথগুলো।

একটু পরই আবার সুতো কেটে শূন্য ডালপালায় বিঁধে
ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় ঘুড়িটা।

কিশোরের আকাশটা কি ভেঙে পড়েছিলো তখন?
এইসব পথের কথা আর মনে থাকে না।

রোদগুলো একা একটা নদীর ধারে সরে যায়,
প্রায় জলশূন্য নদীর কান্না এঁকেবেঁকে
বিকেলগুলোকে আর আলাদা করতে পারে না।
দূরের ট্রেনের হুইসেলে শব্দগুলো
কোন স্টেশনে যেয়ে যেন থেমে যায়।
নদীর কান্না শোনার কেউ থাকে না।
মাঠে মাঠে তখন নবান্নের আনন্দ।
খড়পোড়া ধোয়ার গন্ধ আর হালকা কুয়াশার
মিশ্রিত ধোঁয়াশা সন্ধ্যের পথে ফিরে যেতে বলে।

ফিরতি পথে পড়ে যাওয়া হাটের টং দোকানের চায়ের শব্দ
জীবনের আয়ু নির্দিষ্ট কিছু চুমুকে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।
ওখানেও আর থামা হয় না।
পথ-মাঠ পেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে
পায়ের পাতায় জলাবদ্ধতা ঠ্যাকে কোথাও কোথাও।
কী যেন এসে বিঁধে যায় পায়ে

আর চোখে পড়ে কত কত পাখি
নিজ নিজ নীড়ে ফিরে যাচ্ছে।
এতসব দেখেও পরিযায়ীদের অপেক্ষায়
মনের কোণে কিছুটা আশা জমা থাকে।

পায়ের ব্যাথাটার জন্যও এবার একটু জিরিয়ে নিতে হয় তবে।
শেষমেষ ঝুপড়ি একটা তেঁতুল গাছের নীচেই এসে বসা।
আড়ি পেতে থাকা ভূতের গল্পগুলো গায়ে কাঁটা দিয়ে
আবার শালের মতো জড়িয়ে পড়ে।

যতদূর চোখ যায়,
জোছনাবন্দি হ্যালুসিনেশনের মতো কতগুলো অবয়ব।
মানুষ-আত্মা-ভূত, কি জানি কী?
চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে,
রাতের চোখে এবার ঘুম নামুক।


কবিঃ নিপা খান, বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের বিখ্যাত এক জেলা ঠাকুরগাঁয়ে তার জন্ম। শৈশব থেকেই কবি নন, তবে জীবন তাকে উপহার দিয়েছে অনেক কবিতা। জীবনের প্রয়োজনে প্রিয় স্বদেশ আর শৈশবের টাঙ্গন থেকে দূরে আছেন এই কবি।

নিপা খান এ প্রজন্মের কবি। শব্দের বেড়াজালে বেঁধে নিয়েছেন প্রতিবাদ আর প্রতিশ্রুতির হাতিয়ার গুলোকে। “বুনো মেঘ” “অর্ধেক দেবদারু” তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

মতামত দিনঃ